ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

অদম্য গনিম-আল-মুফতাহ্

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২, ১৮:১১  
আপডেট :
 ২২ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৫৮

অদম্য গনিম-আল-মুফতাহ্
সংগৃহীত ছবি
জার্নাল ডেস্ক

শারীরিক অক্ষমতা সবাইকে যে দমিয়ে রাখতে পারে না গনিম-আল-মুফতাহ যেন তারই বড় উদাহরণ। কাতারের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং বিখ্যাত একজন ব্যক্তি। কারণ, তার হাত ধরেই বেজে উঠলো ফিফা বিশ্বকাপের দামামা। ২০২২ সালে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলের আসরের উদ্বোধন করলেন গনিম-আল-মুফতাহ্। আল বাইয়াত স্টেডিয়ামের এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী মানুষ।

গনিম-আল-মুফতাহর শরীরের নিচের অংশ নেই। জন্মের আগেই দুটো পা হারিয়ে ফেলেন। কোডাল রিগ্রেশন সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত গনিমের শরীরের নিম্নাংশ না থাকা সত্বেও তিনি গোটা কাতার তথা আরব দুনিয়ার একজন রোল মডেল। আরবের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে তার ভক্ত-সমর্থক।

তিনি একজন বিশ্ববিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার তার বক্তব্যের মাধ্যমে উজ্জীবিত, বর্ণময় হয়ে ওঠে হাজার বর্ণহীন জীবন। গনিম যখন মাতৃগর্ভে, তখনই আলট্রা-সাউন্ড মেশিনে ধরা পড়ে তার শরীরের অবিকশিত অংশ। ডাক্তার গর্ভপাতের নিদান দেন। কারণ অপূর্ণাঙ্গ সন্তানের জন্ম দেয়ার চেয়ে তাকে জঠরে হত্যা করে দেওয়া শ্রেয়।

গনিমের মাতা-পিতা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারলেন না। কারণ, ইসলামের নিদান অনুযায়ী গর্ভপাত হলো চূড়ান্ত অপরাধ। তার মা ইমান-উল-আবদেলি ও বাবা মুহাম্মদ-আল-মুফতাহ্ এটাকে মহান আল্লাহর সিন্ধান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে, বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিলেন। বাবার উদ্দেশে তার মা বলেন, আমি হবো সন্তানের বাম পা আর তুমি হবে তার ডান পা। আমরা দুজনে সন্তানকে কখনো নিম্নাংশের অভাব টের পেতে দেবো না।

২০০২ সালের ৫ মে পৃথিবীর আলো দেখেন গনিম। শিশুকাল থেকেই পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়ে পড়েন তিনি। স্কুল, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে অপমানিত করা হতো। তিনি এসবের তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যেতেন নিজ পথে, একেবারে নিজস্ব ছন্দে। বন্ধুদের বোঝাতেন তার অসম্পূর্ণ শরীরের জন্য তিনি মোটেও দোষী নন।। আল্লাহ তাকে যে পরিমাণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ দিয়ে পাঠিয়েছেন এর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

নিজের সহপাঠী, বন্ধুবান্ধবকে এসব বোঝাতে বোঝাতে নিজের অজান্তেই তিনি হয়ে ওঠেন একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। একদিন যার ভূমিষ্ট হওয়া নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো, তার হাতে উদ্বোধন হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এক প্রতিযোগিতার আসর।

কাতারের ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী যুবক আজ সেদেশের শান্তির দূত হিসাবে গোটা বিশ্ব দরবারে পৌঁছে গেছেন। এছাড়া তিনি একজন মোটিভেশনাল স্পিকার, কবি, সাহিত্যিক, দারুণ বক্তা হিসাবে আরব দুনিয়া তথা গোটা বিশ্বের কাছে সমাদৃত।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত